আকাবার যুদ্ধ এবং লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া

১৯১৭ সালের জুলাই মাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। গোটা আরব তখন বলতে গেলে ফাঁকা মাঠ, স্থানীয় গোত্রগুলো নিজেরা নিজেদের এলাকা ভাগ করে নিচ্ছে। এক সময় প্রবল প্রতাপের সাথে আরব শাসন করা অটোমান খেলাফতের দিন ফুরিয়ে আসছে। আর আরব বিপ্লবের ডাক দিয়ে হাশেমী নেতা হোসেন ঘোড়া হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন হেজাজের মরুভূমির ভেতর।

এমন একটা পরিস্থিতিতে আদা আল তায়ীর নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের একটি দল আকস্মিক হামলা চালিয়ে তুর্কিদের কাছ থেকে আকাবা পোর্টের দখল নেয়। এই যুদ্ধে বিদ্রোহীদের সাথে ছিলেন ইংরেজ অফিসার টি ই লরেন্স, যিনি ‘লরেন্স-অফ-অ্যারাবিয়া’ নামে বেশি পরিচিত। তুর্কিদের বিরুদ্ধে চলা আরব বিপ্লবের পালে হাওয়া দিতে এবং একই সাথে ব্রিটিশদের সাথে গাঁটছড়া বাধার ক্ষেত্রে আকাবা পোর্টের এই যুদ্ধের ভূমিকা ছিলো ব্যাপক।

আরব বিপ্লব

arab revolt

অটোমান খেলাফতের দীর্ঘ শাসনকালে মধ্যপ্রাচ্য ছিলো মোটামুটিভাবে শান্ত। নেহাত প্রয়োজন ছাড়া তুর্কীরা খেলাফতি ক্ষমতা জাহির করতো না, আর আরবরাও খলীফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার চাইতে নিজেদের ভেতর হানাহানি কাটাকাটি নিয়ে বেশী ব্যস্ত ছিলো।

কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে ১৯০৮ সালের পর থেকে। সার্বজনীন ইসলামী খেলাফতের ধারণাকে সরিয়ে তুর্কীদের ভেতর মাথাচাড়া দিতে শুরু করে তুর্কী জাতীয়তাবাদ। তুর্কীরা তাদের ভাষা আর সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দিতে শুরু করে অধীন আরব দেশগুলোর উপর। এছাড়া খলীফার ক্ষমতা কমিয়ে পার্লামেন্ট গঠন বা সংবিধান প্রণয়ন ইত্যাদি সংস্কার গুলো রক্ষণশীল আরব নেতাদের দৃষ্টিতে ছিলো রীতিমতো ধর্মদ্রোহিতা।

330px-Sherif-Husseinএমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আরব গোত্রগুলোকে এক করে ১৯১৬ সালে পবিত্র নগরী মক্কা থেকে ‘ধর্মচ্যুত’ তুর্কীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের ঘোষণা দেন হাশেমী নেতা হোসেন বিন আলী। তিন দিন যুদ্ধের পর বিদ্রোহীদের দখলে আসে মক্কা নগরী, সেখানকার তুর্কী ক্যাম্পগুলোকে হটিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় তারা। এরপর তিন রঙ পতাকা নিয়ে তারা অগ্রসর হতে থাকে মুসলিমদের দ্বিতীয় পবিত্র শহর মদীনার দিকে।

ঠিক এক মাসের মাথায় মদিনায় হামলা চালাতে গিয়ে প্রথমবার বাধাপ্রাপ্ত হয় হোসেনের বাহিনী। এবার আর আচমকা হামলা করা যায়নি, তুর্কীরা আগে থেকেই সতর্ক হয়ে অপেক্ষা করছিলো বিদ্রোহীদের জন্য। আধুনিক তুর্কী বাহিনীর মেশিনগান আর যুদ্ধবিমানের সামনে পড়ে কচুকাটা হয়ে ফেরত আসতে হয় তাদেরকে।

এই যুদ্ধ শেষে বিদ্রোহী নেতা হোসেন বুঝতে পারেন – শুধু তলোয়ার আর ঘোড়া নিয়ে গোটা আরবের মানুষ যদি একসাথে বিদ্রোহ করে, তাও সম্মুখ যুদ্ধে হারানো যাবে না তুর্কীদের। আধুনিক অস্ত্র লাগবে, আর লাগবে মিত্র।

লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন সবেমাত্র শুরু হয়েছে। ইউরোপে হারানো প্রভাব ফিরে পাওয়ার খায়েশে জার্মানির সাথে হাত মিলিয়েছে অটোমান সাম্রাজ্য। পিঠ বাঁচানোর স্বার্থেই তুর্কীদেরকে যুদ্ধের মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়া ছাড়া ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের সামনে তখন আর কোনো পথ খোলা ছিলো না। আর সেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিলো হোসেনের এই কথিত ‘আরব বিপ্লব’।

হোসেনের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করতে শুরু করে ব্রিটেন। আর আধুনিক সমরাস্ত্র আর ট্রেনিং এর আশ্বাস পেয়ে এই মিত্রতার আহবান লুফে নেন হোসেন।

csm_1_Akaba_b6e378173fব্রিটেনের সামরিক সহায়তা পেয়ে নতুন উদ্যমে জেগে উঠতে শুরু করে বিদ্রোহীরা। এমন একটা পরিস্থিতিতে বিদ্রোহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ১৯১৬ সালে অফিসার টি ই লরেন্সকে আরবে পাঠায় ব্রিটেন। সামরিক অভিজ্ঞতা সামান্য হলেও সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েক বছর কাজ করার ফলে আরবের সাধারণ মানুষের ভেতর মিশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন লরেন্স। পরবর্তীতে এই যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে সামরিক বাহিনীর ইন্টেলিজেন্সে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

সংগত কারণেই ব্রিটেন আর ফ্রান্সের প্রচুর গোয়েন্দা কর্মকর্তা তখন কাজ করছিলো আরবে। এদের ভেতর ফ্রান্সের বেশ কিছু মুসলিম অফিসারও ছিলেন। কিন্তু আরবের ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পূর্ব পরিচিতি থাকার কারণে লরেন্সের পক্ষে খুব দ্রুত বিদ্রোহীদের ভেতর মিশে যাওয়া সম্ভব হয়েছিলো। দেখা গেলো, মুসলিম ফ্রেঞ্চ অফিসাররা যখন আরবি শিখতে ব্যস্ত, লরেন্স তখন বিদ্রোহীদের তাঁবুতে বসে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন গোত্র প্রধানদের সাথে।

এমন আলাপচারিতার একটা পর্যায়ে হোসেনের সেজ ছেলে ফয়সলের সাথে খাতির জমিয়ে ফেলেন লরেন্স। দুজনেই ছিলেন প্রায় সমবয়সী আর বাকী ভাইদের মধ্যে একমাত্র ফয়সলই লরেন্সের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। অল্প সময়ের ভেতরে এই বন্ধুত্ব এতোটাই গাঢ হয়ে যায় যে, লরেন্সকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন ফয়সল। (উপদেষ্টার এই চাকরীতে লরেন্সকে অবশ্য সফল বলতেই হবে, কারণ ১৯১৭ সালে আকাবা দখল করার বুদ্ধিটা লরেন্সই ফয়সলকে দিয়েছিলেন।)

আকাবা বন্দর

csm_15_Akaba_41079b2d92
তখনকার আকাবা বন্দর, নিরীহ দর্শন এই বন্দরটিই ছিলো সেসময় মধ্যপ্রাচ্যে তুর্কীদের সবচেয়ে শক্ত সামরিক ঘাটি

১৯১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে আরব বিদ্রোহ গেরিলা হামলা নির্ভর হয়ে পড়ে। কম রক্তপাত করে বেশী মালে গনিমত পাওয়ার কারণে যোদ্ধারা খুশী ছিলো,আবার একই সাথে আরবের বিভিন্ন প্রান্তে দখল বজায় রাখতে তুর্কীরা রীতিমতো নাকানিচোবানি খাচ্ছিলো। (ব্রিটিশরাও খুশী ছিলো কারন তুর্কীরা মধ্যপ্রাচ্য সামলাতে ব্যস্ত, ইউরোপের দিকে তাকানোর সময় আর তাদের নেই।)

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য বা ব্রিটিশদের কাছে ‘পাত্তা’ পাওয়ার জন্য একটা বড় বিজয় প্রয়োজন ছিলো বিদ্রোহীদের। এই পরিস্থিতিতে লরেন্স প্রস্তাব করেন তুর্কীদের অন্যতম সামরিক ঘাঁটি আকাবার দখল নেয়ার জন্য।

যুদ্ধের নকশা

আকাবা বন্দর সেসময় ছিলো তুর্কীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাটি। মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত হামলা চালাতে তারা এই বন্দর ব্যবহার করতো। যে কারণে ব্রিটিশরা বহুবার বন্দরে হামলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু নৌপথে তুর্কীদের ব্যূহ ভেঙ্গে ব্রিটিশদের পক্ষে এই বন্দরের দখল নেয়া সম্ভব হয়নি কখনো।

অন্যদিকে স্থলপথে হামলা করতে হলে যে পথে আসতে হবে, তা এতোটাই দুর্গম ছিলো যে আরব বেদুঈনরা পর্যন্ত সেই পথে চলাচল করতে সাহস পেতো না। কিন্তু লরেন্স প্রস্তাব করলেন, এই দুর্গম পথে গিয়েই যেন হামলাটা চালায় বিদ্রোহীরা।

কারণ বন্দরের বাইরে সামান্য কিছু নিরাপত্তা চৌকি ছাড়া আর কোনো সামরিক স্থাপনা নেই তুর্কীদের। এদিক দিয়ে কেউ কখনো হামলা করতে পারে সেটাও তাদের চিন্তার বাইরে ছিলো।

ফয়সলের তাঁবুতে যখন এইসব হিসাব নিকাশ কষছেন লরেন্স, তখন হুরিয়াত গোত্রের প্রধান আদা আল তায়ী এসে উপস্থিত হন ফয়সলের সাথে দেখা করতে। লরেন্সের এই পরিকল্পনা শুনে ফয়সল খুব একটা আগ্রহী না হলেও আদা নিজের বাহিনী সহ এই অভিযানে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শেষে ঠিক হয় ফয়সল নয় বরং আদা আল তায়ীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এই অভিযান, এবং ব্রিটেনের প্রতিনিধি হিসেবে লরেন্স বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেবেন এবং বন্দর দখলের পর ব্রিটেনের কাছ থেকে যাবতীয় সামরিক সহায়তা আনার ব্যবস্থা করবেন তিনি।

দুর্গম মরুর বুকে যাত্রা

journeysআদা আল তায়ীর নেতৃত্বে ১৯১৭ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ওয়েজ থেকে যাত্রা শুরু করে বিদ্রোহীরা। ফয়সল নিজে এই যাত্রায় অংশ নেননি, কিন্তু ৪০ জন যোদ্ধা দিয়েছিলেন।

এছাড়া যদিও ব্রিটিশরা প্রাথমিকভাবে এই হামলার বিষয়ে তখনো জানতো না। আকাবার পতনের পর লরেন্স নিজে কায়রোতে গিয়ে এই খবরটা জানিয়েছিলেন। (এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়, তুর্কীদের টাইট দেয়ার জন্য আরবদের সাথে মিত্রতা পাতালেও ব্রিটিশরা কখনোই চায়নি আরব বিপ্লব সফল হোক। যে কারণে আকাবা বন্দর তুর্কীদের হাতছাড়া হওয়াতে তারা হাফ ছেড়ে বাঁচলেও বিদ্রোহীদের হাতে সেটা তুলে দেয়ার কারণে লরেন্স কিছুটা তিরষ্কৃত হয়েছিলেন।)

দুর্গম মরুর ভেতর প্রায় ৬০০ মাইল পাড়ি দিয়ে ৬ই জুন আকাবা বন্দরের কাছাকাছি পৌছায় বিদ্রোহীদের দলটি।

পথিমধ্যে ছোট ছোট বাহিনী বিভিন্ন দিকে পাঠিয়ে বেশ কিছু তুর্কী ক্যাম্প লুট করে তারা। এই কাজটা করার উদ্দেশ্য ছিলো শত্রুদেরকে নিজেদের গতিবিধি বুঝতে না দেয়া।

শত্রুর মুখোমুখি

csm_12_Akaba_202fbd283e
আকাবা বন্দরে তুর্কীদের নিরাপত্তা ছাউনি

আকাবা বন্দরের স্থল হামলা ঠেকানোর জন্য তুর্কীদের সবচেয়ে বড় ক্যাম্প ছিলো আবু-আল-লিসানে। ২রা জুন সকালে তুর্কী সেনারা আবিষ্কার করে আরব বিদ্রোহীরা চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে ফেলেছে। যদিও তুর্কীদের প্রতিরোধ ছিলো যৎসামান্য, কিন্তু আদার বাহিনী কিছুতেই তাদের নাগালের ভেতর যেতে পারছিলো না।

দিনটি ছিলো প্রচণ্ড গরম, তাপদাহে অনভ্যস্ত লরেন্স একটা পর্যায়ে নিজের উট থেকে লাফ দিয়ে নেমে কাদাপানির ভেতর ঝাপ দেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে তিনি আদাকে কিছুটা ভৎসনা করে বলেন “ your warriors shoot a lot and hit a little.”

ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে আদা আল তায়ীর মেজাজ মর্জি সম্পর্কে যা জানতে পারি তাতে মুখের উপর এই কথা বলার পর কারো ধড় আর মাথা এক থাকার কথা না। কিন্তু লরেন্সের ভৎসনাটুকু সামলে নিয়ে তিনি তার বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেন সামনে অগ্রসর হতে। এরপর তুর্কীদের আর কোনো প্রতিরোধ কাজে আসেনি।

csm_11_Akaba_55c3f19084
বিদ্রোহীদের হাতে শোভা পাচ্ছে আরব বিপ্লবের পতাকা

জুনের ৬ তারিখ আরব বিদ্রোহীরা পৌছায় আকাবা বন্দরে। বিস্মিত ও বিভ্রান্ত তুর্কী সেনারা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই যুদ্ধ। এভাবে আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটির দখল নেয় আরব বিদ্রোহীরা, আর সেখানে উড়তে শুরু করে আরব বিপ্লবের তিন রঙ পতাকা।

csm_14_Akaba_55358fb003

যুদ্ধের ফলাফল

আকাবা বন্দরের দখল হারানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তুর্কীদের সামরিক প্রভাব ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং একই সাথে ব্রিটিশদের প্রভাব সুরক্ষিত হয়।

যদিও এই যুদ্ধটা সত্যিকার অর্থে ব্রিটেনের কূটনৈতিক বিজয় ছিলো, তবুও এমন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের দখল বিদ্রোহীদের হাতে যাওয়াটা ভালো চোখে দেখেনি ব্রিটেন। তবে বাইরে বাইরে ফয়সল তার পাওনা ‘পাত্তা’ টুকু ঠিকই পেয়েছিলেন।

লরেন্স কায়রো হেডকোয়ার্টারে খবর পাঠানোর পর বিদ্রোহীদের জন্য পর্যাপ্ত রসদ সহ প্রায় দুই লাখ পাউন্ড স্বর্ণমুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা পাঠায় ব্রিটেন। লরেন্সকে প্রমোশন দিয়ে মেজর পদে উন্নীত করা হয়।

ব্রিটেনের সুনজরে আসেন ফয়সল-ও। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রেঞ্চরা সিরিয়া থেকে ফয়সলকে বিতাড়িত করলে এই সুনজরের কারণেই তাকে ইরাকের সিংহাসনে বসতে সাহায্য করেছিলো ব্রিটেন।


শেষের সমীকরণ…

সাময়িক কিছু সাফল্য সত্ত্বেও শেষমেশ আরব বিদ্রোহ কিন্তু সফলতার মুখ দেখেনি। বিদ্রোহীরা যখন স্বাধীন আরব ভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামে ব্যস্ত তখন ফ্রান্স আর ব্রিটেন ঠিকই নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।

ব্রিটেনের দুই নীতির ভারসাম্য রাখতে না পেরে লরেন্স একটা সময় ইস্তফা দেন চাকরী থেকে। আর বহু ভাগাভাগি আর কাটাকাটির পর ইরাক আর জর্ডানের সিংহাসনে বসতে সক্ষম হন হোসেনের দুই ছেলে ফয়সল আর আবদুল্লাহ।

১৯২২ সালে পুনরায় ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিতে গিয়ে ব্রিটেনের সুনজর হারান হোসেন। তারা সমস্ত সামরিক আর কুটনৈতিক সহায়তা উঠিয়ে নেয় হেজাজ থেকে। সুবর্ণ সুযোগ টের পেয়ে সেই বছরেই নজদ প্রদেশ থেকে সৌদ বংশ হামলা চালায় হেজাজে।

অতর্কিত আক্রমণে হোসেনের বাহিনীকে পরাস্ত করে প্রদেশটির দখল নিয়ে নেয় সৌদ বাহিনী, হোসেন পালিয়ে আশ্রয় নেন জর্ডানে বড় ছেলে আবদুল্লাহর কাছে। এদিকে হেজাজ আর  নজদ – এই দুই প্রদেশ একত্র করে সৌদরা প্রতিষ্ঠা করে আজকের সৌদি আরব রাষ্ট্র।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s