জাপানে রোবট ফলাবে ফসল, করবে হালচাষ

আমাদের মতো কৃষিপ্রধান দেশে ‘কৃষকের ছেলে’ কথাটা মনে হয় সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এক বা দুই প্রজন্ম আগে সবার বাপ দাদাদেরকেই মালকোচা মেরে খাটতে হয়েছে ক্ষেতে, ঘাম ঝরিয়ে ফলাতে হয়েছে ফসল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে জীবনমান উন্নত করতে মানুষ ক্রমশ সরে এসেছে এই পেশা থেকে।

কিন্তু আশপাশ যত ডিজিটাল আর যত আধুনিকই হোক, আদতে মানুষ নিজেই তো অ্যানালগ প্রাণী। বেঁচে থাকার জন্য তাকে প্রতিদিন তিনবেলা খেতে হয় মাঠে ফলানো ফসল। তাই এমন দিন যদি আসে – কেউ আর ক্ষেত খামারে কষ্ট করে ফসল ফলাবে না, তখন গোটা জাতিকেই অনাহারে থাকতে হবে।

এমন ধানক্ষেতের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে জাপানে
এমন ধানক্ষেতের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে জাপানে

এই বিষয়টা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে জাপান। ‘উন্নয়নের ঠ্যালায়’ এখন সবাই এখন ব্যাস্ত অফিস আদালত আর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তরুনদের কেউ এখন আর মাঠে গিয়ে হাল চাষ করতে রাজী না। এখনো যারা বাপ দাদাদের জমিতে আবাদ করছেন, তাদের প্রায় সকলের বয়সই পয়ষোট্টি ছাড়িয়ে গেছে। আর এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরিই যে জাপানকে খাবারের জন্য বাইরের দেশগুলোর উপর ভরসা করতে হবে, সেকথা বলাই বাহুল্য।

এসব নিয়ে আলোচনা করতে দুই মাস আগে এক বৈঠকে বসেছিলো জাপান সহ সাতটি উন্নত দেশের খাদ্য মন্ত্রীরা। আর সেখানেই উত্থাপিত হয় রোবট ব্যাবহারের প্রস্তাবটা। এতো সাধার পরও মানুষ যখন কাজটা করতেই চাইছে না, তাহলে রোবট দিয়ে করাতে দোষ কি!

যুক্তিটা আসলে কিন্তু ঠিকই, জাপানে প্রতিবছর হেক্টর হেক্টর জমি কৃষকের অভাবে অনাবাদী হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে তাদেরকে এখনই ৬০% খাবার বাইরে থেকে আমদানী করতে হয়। তাই শেষপর্যন্ত রোবট দিয়েই খাদ্য উৎপাদনের দিকে ঝুকেছে জাপান।

কৃষকের পাশে রোবট সহকারী

japanপ্রায় ছত্রিশ মিলিয়ন ডলারের এই প্রজেক্টে প্রায় বিশটি রোবট ডিজাইন করা হয়েছে কৃষিকাজে সহায়তা করার জন্যে। এর মধ্যে জিপিএস সুবিধা যুক্ত অটোমেটিক ট্রাক্টর থেকে শুরু করে ক্ষেতে পানি দেয়া সহ অন্যান্য মনিটরিং এর বিভিন্ন কাজ করার মতো রোবট আছে।

এছাড়া এসব রোবট কৃষকরা ব্যাবহার করতে পারবেন সহকারী হিসেবেও। ফসল বহন করে নিয়ে যাওয়া বা চট করে পানি দেয়া বা পাকা ফসল বহন করার মতো ‘হুকুম’গুলো তামিল করবে এইসব রোবটগুলো।

রোবট ফলাবে লেটুস পাতা

3861
রোবোটিক খামারে উৎপাদিত লেটুস পাতা পরীক্ষা করা হচ্ছে

এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের একটি ফার্ম সম্প্রতি ঘোষনা দিয়েছে তারা একটি খামার চালু করতে যাচ্ছে যেটা আগা গোড়া পরিচালিত হবে যন্ত্রের দ্বারা। বীজ রোপনের পর থেকে দৈনিক নিয়ম করে পানি দেয়া বা পরিচর্যা করা থেকে  ফসল পাকার পর তা গুদামে পৌছে দেয়া পর্যন্ত সমস্ত কাজ নিজে নিজেই সম্পন্ন করবে এই ফার্মটি।

রোবট ফার্মের লেটুস ক্ষেত
রোবট ফার্মের লেটুস ক্ষেত

সাড়ে চার হাজার বর্গমিটার জায়গার উপর গড়ে ওঠা খামারটি পুরোপুরিভাবে চালু হতে সময় লাগবে আরও এক বছর, আর প্রাথমিকভাবে তাদের লক্ষ্যমাত্রা দৈনিক তিরিশ হাজার লেটুস উৎপাদনের।

কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই খামারে উৎপাদিত লেটুসের পুষ্টিমান প্রচলিত পদ্ধতিতে উৎপাদিত লেটুসের মতোই, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা নাকি বাজারের অন্যান্য লেটুসের চেয়ে বেশী স্বাস্থ্যকর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s