Ordinary People can do extraordinary things: অন্তর্জালে রংধনু পতাকার ছড়াছড়ির সূত্রপাত যেখান থেকে

খবরটা ছড়ানোর সাথে সাথেই হঠাৎ করেই যেন জেগে উঠলো নিউজরুমগুলো। ব্রেকিং নিউজ দেখাতে লাগলো চ্যানেলগুলো, সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দিলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। এই আন্দোলনের কর্মীরা সাতরঙ্গা পতাকা আর লিফলেট হাতে নেমে পড়লেন রাস্তায়। ঠিক এমন সময় একটি কল আসলো মামলার বাদী জেমস ওবেরিফেলের মুঠোফোনে। স্পীকারফোনে শোনা গেলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার কন্ঠস্বর, “We’re really proud of you… “।

জেমস ওবেরিফেলের সাথে জন আর্থারের দেখা হয়েছিলো একটি পানশালায়। প্রথম দেখায় কথা হয়তো তেমন এগোয়নি। পরবর্তীতে তাদের দেখা হয় এক বন্ধুর পার্টিতে। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের সুত্রপাত। আমেরিকার আর দশটা সমকামী জুটির মতোই একটা পর্যায়ে একত্রে বসবাস করতে শুরু করেন তারা। সময়টা নব্বইয়ের দশক।

তারপর থেকে বিশটা বছর এই দুজন একসাথেই থেকেছেন মাঝারি আকারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। ২০১১ সালে একদিন হঠাৎ আর্থার অনুভব করেন বাম পা কেমন অবশ অবশ লাগছে। চেকআপ করানোর পর জানা গেলো ALS নামক দুরারোগ্য এক ব্যাধিতে ভুগছেন তিনি। প্রথমে একটি ছড়ি হাতে খুড়িয়ে হাঁটা, এরপর ওয়াকার, তারপর হুইল চেয়ার…একটা পর্যায়ে যখন প্রায় সারা শরীর অবশ হয়ে গেলো, তখন স্থায়ীভাবেই বিছানায় পড়ে যেতে হলো আর্থারকে।

সঙ্গী হিসেবে জেমস পুরোটা সময় পাশে ছিলেন, ঠিক যেভাবে তারা দুজন একসাথে কাটিয়েছিলেন এতোগুলো বছর। রোগ নির্ণয়ের প্রায় দুবছর পর, মানে ২০১৩ সালে এসে জেমস সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুশয্যায় থাকা এই মানুষটির সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তিনি।

কিন্তু যতটা সহজভাবে আমি বলছি, কাজটা এতো সহজ ছিলো না। ওহিও রাজ্য সমলিংগের বিয়ে স্বীকৃতি দেয় না। তাই বিয়ে করতে চাইলে তাদেরকে যেতে হবে আশেপাশের কোনো রাজ্যে যেখানে এটি আইনগতভাবে স্বীকৃত। ততদিনে জমানো টাকা সব শেষ। রীতিমতো ধার দেনা আর বন্ধুদের সহায়তায় মেরিল্যান্ডে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় জিম আর জন।

এই বিয়েটার পর আর কয়েক মাস বেঁচেছিলেন জন আর্থার। মৃত্যুর পর সঙ্গীর ডেথ সার্টিফিকেটের দিকে তাকিয়ে জেমস আবিষ্কার করেন আর্থারের জীবনসঙ্গীর ঘরটা খালি, সেখানে তার নাম নেই। সেটা সংশোধনের জন্য তখনি অফিসে যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু ওহিও কতৃপক্ষ কাজটা করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা কিছুতেই দুজন পুরুষকে বিবাহিত দম্পতি হিসেবে স্বীকৃতি দিবে না। শেষমেশ আদালত পর্যন্ত গড়ায় ব্যাপারটা। নিম্ন আদালতের রায় আসে বাদীর পক্ষে, মানে জেমসকে জীবনসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করতে আদেশ দেয় আদালত। এই রায়ে এতোই চটেছিলো রক্ষণশীলরা, রিপাবলিকান এক আইনপ্রনেতা ওই বিচারককে ইমপিচ করার দাবী পর্যন্ত উঠিয়েছিলো।

অন্যদিকে জেমসও নাছোড়বান্দা, সুখে দুঃখে বিশ বছর কাটানো সঙ্গীর নামের পাশে নিজের নামটা জুড়ে দিতেই হবে। আপিল হয়ে হয়ে মামলাটি একসময় পৌছে গেলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে।

এই মামলাতেই ২০১৫ সালের ২৬শে জুন এক ঐতিহাসিক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট বৈধতা দেয় সমকামী বিয়ের। রায়ে বলা হয়, এখন থেকে সমস্ত রাজ্যকে সমকামীদেরকে বৈধভাবে বিয়ের এবং বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এতোদিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু রাজ্য স্বীকৃতি দিতো সমকামী বিবাহের। বিয়ে করার জন্য এসব রাজ্যে ছুটতে হতো সমকামী জুটিদেরকে। তাদের দত্তক নেয়া সন্তানদেরকেও ভুগতে হতো আত্বপরিচয় সংকটে। এই সমস্ত সংকটের অবসান হলো এই রায়ের মাধ্যমে।

সমকামী বিয়ের ইস্যু আমাদের দেশে কিছুটা অপ্রাসংগিক। ধর্মীয় ও সামাজিক বাধার কারণে এই চর্চা এখানে একেবারেই নিষিদ্ধ। তাই বলে রংধনু পতাকাকে অস্বীকার করতে পারছি না। সমকামীদের বিয়ে নাহয় দূরেই থাকুক আপাতত। আমাদের দেশের রাস্তায় আবর্জনার মতো পড়ে থাকা হিজড়া সম্প্রদায় ওই পতাকার নিচে নিজেদের কর্মসংস্থান আর স্বাভাবিক জীবন যাপনের অধিকার আদায় করে নিবে একদিন, এই সম্ভাবনাটুকু খুজছি আজকের এই রংধনু বিপ্লবের ভেতর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s