সংক্ষিপ্ত পোষ্ট ব্রেকিং নিউজের নামে টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে বিভ্রান্তিকর খবর

টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে দেখানো ব্রেকিং নিউজ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার নমুনা দেখা গেলো আজ সকালে ধর্ষনের শাস্তি সংক্রান্ত আপিল বিভাগের একটি রায়ে।

আজ একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে, ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের তিনটি ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষনা করেছে আপিল বিভাগ। সেই আইনে ধর্ষনের পর হত্যার অপরাধে একমাত্র শাস্তি ছিলো মৃত্যুদন্ড। পরবর্তীতে ২০০০ সালে এই আইন নতুনভাবে পাশ করা হয়, এবং পুরাতন আইনটি কার্যকারিতা হারায়। তবে যেসব মামলার বিচার তখন আদালতে চলমান ছিলো, নতুন আইনে বলে দেয়া হয় সেসবের বিচার পুরাতন আইনের অধীনেই চলবে। সেসময়ের একটি মামলার সূত্র ধরেই এই প্রসংগের অবতারনা।

photo_2015-05-05_23-48-51
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খবরটি প্রচার হয় এভাবে..

তবে ভেতরের আইনি ব্যাখ্যা যাই হোক, আসল কথা হলো বর্তমান সময়ে ধর্ষনের বিচার প্রক্রিয়া বা শাস্তির বিধানের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই বা এর প্রভাবও সেখান পড়বে না।

কিন্তু, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তটি মনে হয় পুরোপুরি পড়ে শোনানোও শেষ হয়নি, তার আগেই টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ, “ধর্ষনের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ডকে অমানবিক ও অসাংবিধানিক ঘোষনা করেছে আপিল বিভাগ” , “ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছে সুপ্রীম কোর্ট”। ফেসবুক পেজ গুলোতেও মহাসমারোহে শুরু হয়ে গেলো এই “ব্রেকিং নিউজ” এর প্রচার। অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ট্যাটাস দিতে শুরু করলেন, তাহলে কি ধর্ষনের বিচার উঠে যাবে দেশ থেকে? ধর্ষকদের শাস্তি হবে না? তাহলে ধর্ষন কমবে কিভাবে? (প্রতিক্রিয়া গুলো খুবই যুক্তিযুক্ত, কারণ আদালত থেকে যে ধর্ষককে ডিফেন্ড করে এমন রায় আসতে পারে সেটা সাধারন মানুষের চিন্তা বাইরে।)

বেলা বাড়ার সাথে সাথে অবশ্য নিউজের ভাষা পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু “যখনকার খবর তখন” পৌছে দিতে গিয়ে তাৎক্ষনিক খবরটি যে ভয়াবহ ভাবে বিকৃত হলো, সেটা কি লক্ষ্য করেছেন ডেস্কের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকরা? আদালত সংক্রান্ত বিষয় না হয়ে, স্পর্শকাতর বিষয়ের কোনো খবর হলে মিনিটের ভুলে দেশজুড়ে দাংগা বেধে যেতে পারতো।

এই দেশে চাঁদে রাজাকারদের দেখা যায়। গুজবে কান দিয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামায় প্রাণ দেয় মানুষ। রামুতে হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য মাটির সাথে মিশে গেছে একটি ধর্মবিরোধী ফেসবুক পোস্ট শেয়ার দেয়ার প্রপাগান্ডাতে।

সুতরাং টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে বা চ্যানেলগুলির ফেসবুক পেজে খবর প্রচার করার আগে যাচাই বাছাই করে তারপর প্রচার করা হোক। খবরের বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়ে অথবা সত্যতা যাচাই না করেই সেটা প্রচার করতে শুরু করে দেয়া অসুস্থ সাংবাদিকতার লক্ষণ। এবং এই চর্চা না করাই ভালো।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s