সংক্ষিপ্ত পোষ্ট মাঝরাতের একটি গাড়ী দুর্ঘটনা যেভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো রক্ষনশীল ইরানের সামাজিক বিভেদ

রাস্তার পাশে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া একটি হলুদ পোরশে। ভেতরে দুই তরুন তরুনী, দুইজনই মৃত। শেষ রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ইরানজুড়ে। বিপ্লবের মুখোশ সরিয়ে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে বিলাসবহুল জীবন যাপন করা কতিপয় ধনী পরিবার এবং অবশিষ্ট মধ্যবিত্ত- নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।

ছোট একটা দুর্ঘটনা কিভাবে এতো জটিল বিতর্কে রূপ নিলো সেটা একটু ব্যাখ্যা করি। পোরশের মালিক ছেলেটি একটি অতি ধনবান পরিবারের সদস্য। একই সাথে সে একজন আয়াতুল্লাহর নাতি (শিয়ারা তাদের শীর্ষ পর্যায়ের ইমাম ও তাত্ত্বিকদের আয়াতুল্লাহ বলে)। যে এলাকায় সে বাস করতো সেখানকার প্রেক্ষাপটে বিলাসবহুল জীবনযাপন কোনো অবাক করার মতো কিছু না। একই সাথে ধর্মীয় নেতার পরিবারের সদস্য হওয়াতে তার জন্য ওখানকার কড়া ধর্মীয় অনুশাসন অনেকটাই ‘মাফ’।

অন্যদিকে, মেয়েটি এসেছে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। তাকে বড় হতে হয়েছে শরিয়া পুলিশ আর কঠিন নজরদারির ভেতরে, ঠিক যেমন আর সবাইকে থাকতে হচ্ছে এখনো। সেখান থেকেই সে ওই তরুনের হাত ধরে সে ঢুকে পড়েছে সেই অভিজাত এলাকার ভেতরে। সে দেখে ফেলেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ভিন্ন এক রূপ। সেখানে টাকা দিয়ে আইন কানুন সবকিছু বদলে ফেলা যায়। আর দুর্ঘটনার ফলে সেই রূপটাই প্রকাশিত হয়ে গেলো সবার সামনে।

ইরানের আইন অনুসারে, মাঝরাতে দুই মাহরাম নারী পুরুষের লংড্রাইভে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তা বাকি জীবন কারাগারে কাটানোর বা প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত খেয়ে মান ইজ্জত হারানোর জন্য যথেষ্ট অপরাধ। কিন্তু কাহিনীটা আরেকটু পেঁচিয়ে দেই। ছেলেটির কিছুদিন আগে ধুমধাম করে আংটি বদল হয়েছে। আর কয়েকদিন পরেই তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কনে এই মেয়েটি না।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় তিরিশ বছর আগে শাহের শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে ইসলামী বিপ্লবে সমর্থন দিয়েছিলো জনগন, তার ভেতর বেশ বড়সড় গলদ হয়ে গেছে। কথা ছিলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে, সেখানে আজকে ১% ধনী দেশের সমস্ত সম্পদ আর ক্ষমতার পাহাড় কুক্ষিগত করে রেখেছে। কথা ছিলো নৈতিকতার চর্চা হবে, সেখানে আয়াতুল্লাহর নাতীপুতিরা বাকী জনগনকে শরীয়া পুলিশ দিয়ে শৃংখলিত করে রেখে নিজেরা ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে আছে।

অনেক ইরানীকেই দেখছি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়া বিধ্বস্ত গাড়ীটির ছবিতে কমেন্ট করছেন, এটা আল্লাহর বিচার। (মানে তারা ধর্মীয় আইন লঙ্ঘন করেছে, তাই আল্লাহ তাদেরকে দুর্ঘটনার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন)। ঠিক আছে মানলাম এটা আল্লাহর বিচার। এই ছেলেটির বিচার নাহয় সম্পন্ন হলো। কিন্তু যারা এত বছর ধরে এই প্রচারনামূলক শাসন চালিয়ে যাচ্ছে দেশটিতে, ওই সমস্ত আয়াতুল্লাহদের বিচার কবে হবে? কারা করবে?

Advertisements

2 comments

  1. লোল। আহমেদিনেজাদ নাকি বগল ছেড়া কাপড় পড়ে। তলে তলে তাইলে সবাই সোন্দর দামি গাড়ি নিয়া ফুর্তিবাজি করে। বেড নিউজ ফর ছাগুস

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s