বোবা ভোট!

বড় বড় ছোখ। মুখ একদম বন্ধ, যেনো কেউ চেপে ধরে রেখেছে। কিছুতেই কথা বলবে না। ভাবলেশহীন চেহারা, রাজনীতির কথা উঠলে উশখুশ করতে থাকে, কখন প্রসঙ্গ পরিবর্তন হবে। নিরীহ গোবেচারা বাঙালি বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডার সময খুব কষ্ট করে এক দুই লাইন রাজনীতির কথা হয়তো বের হবে মুখ দিয়ে, তাও খুব সতর্কভাবে ব্যালেন্স করা। যেনো বোঝা না যায় তার সমর্থনের পাল্লা কোন দিকে।

ভোটের সময় মহল্লার ক্যাম্পেইন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে শুধু, অংশ নেয়না কোনো আলোচনায়। ভোট চাইতে গেলে হাসিমুখে মাথা নাড়ে, লাজুক চাহনি। সত্যি বলতে কি, এসব অকর্মণ্য লোকগুলো একটা কাজই ঠিকমতো করতে জানে ঠিকমতো , সেটা হলো ভোটের দিন সাত সকালে লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেয়া। এরা হলো বোবা ভোটার!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ওই একটা কাজ করেই পুরো সমাজটাকে ওলোটপালোট করে দিতে পারে ওরা।

মোটা অংকের টাকা ছড়ানো হেভিওয়েট প্রার্থীরা ভোটের আগের রাতে ঘুমাতে পারে না কেন জানেন? এই বোবা ভোটারদের ভয়ে। তুমুল বাগ্নী নেতা সফল ক্যাম্পেইন শেষে ভোটের আগমুহুর্তে একই কারণে ক্রমাগত পায়চারি করতে থাকে নিজ বাসভবনের বারান্দায়। কারণ সে ও জানে যাদের ভোট নির্ধারন করবে তার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার, তারা কখনোই ওসব পথসভা-মিটিং-মিছিলে যায়নি। হয়তো সেভাবে লক্ষ্য করেনি সারা শহরে শোভা পাওয়া কোনো পোস্টারও।

এই বোবা ভোটই ঠিক করে দেয় কার হাতে উঠবে শাসনদন্ড। তারাই নির্ধারন করে যোগ্যতা অযোগ্যতার মাপকাঠি। সারা বছর চিৎকার চেঁচামেচি সর্বস্ব আস্ফালনকারীরা অবাক হয়ে খাতার দিকে তাকায়, অংক এভাবে ভুল হয়ে গেলো?

আজ রাত পেরোলে আগামীকাল ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। বোবা ভোট কথা বলুক ব্যালটের ভাষায়। অসৎ, কালোটাকার মালিকদের ভীড় ঠেলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা অধিষ্ঠান করুক নগরপিতার আসনে, এই-ই প্রত্যাশা 🙂

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s