একটি টেলিফোন আলাপ যেভাবে বদলে দিলো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল

MTLLB9yGc(তারিখ, ১৬ই মার্চ ২০১৫। রাত তখন আনুমানিক দশটা বাজে)

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। ফোন বাজছে। ক্রিং ক্রিং ক্রিং..
– হ্যালো?
– হ্যালো। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি ফ্রি আছেন?

– জ্বি, এটা শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। অনুগ্রহ করে জানতে পারি কে বলছেন?
– আমি জুমা বলছি, রনিল সাহেবের সাথে সৌজন্য আলাপ করতে চাই।
– কোন জুমা? জুমাসিংহে পক্করাপর্বতাহে..
– জ্যাকব জুমা, সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট।
(ফোনের একপ্রান্তে ঠাস করে স্যালুট ঠোকার আওয়াজ হলো)
– এক্ষুনি দিচ্ছি স্যার! লাইনে থাকুন।
(জুমার লাইনে সিংহলি ভাষায় গান শুরু হলো।)

কিছুক্ষণ পর।

– হ্যালো।
– হ্যালো রনিল সাহেব, জুমা বলছি।
– মি প্রেসিডেন্ট! আপনি হঠাৎ এমনসময়, এই লাইনে!
– আসলে হঠাৎ করেই আপনার কথা স্মরণে আসলো, জানেন তো কালকে আপনার আর আমার দলের খেলা..
– হ্যা হ্যা আমাদের টিম কিন্তু এবার খুব সিরিয়াস, যেকোনো ভাবে তারা..
– (কথা কেড়ে নিয়ে) ইয়ে মানে, রনিল সাহেব, আপনি কি ক্রিকেট খেলা দেখেন সেভাবে?
– হ্যা দেখি তো। স্পেশালি এবারের ম্যাচগুলা তো..
– (আবার থামিয়ে দিয়ে) মানে আমিও না, ক্রিকেটের খুব ফ্যান। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ বাদ দেই না। আর আমার টিমটা কিন্তু অনেক ভালো। এবার ওদের অনেক সম্ভাবনা ছিলো, কিন্তু..

– কিন্তু?
– ইয়ে..মানে.. ওই..চোকিং শব্দটা শুনেছেন আগে?
– (হাসির শব্দ) ওহ! হ্যা আপনারাই তো শব্দটার সাথে পরিচিত করিয়েছেন সবাইকে। চিনবো না!
– হ্যা..সেজন্যই বলছিলাম কি, আপনারা তো একবার পেয়েছেনই। আমরাও যদি একবার পাই..তাইলে..ইয়ে মানে..
– জুমা সাহেব! আপনি কি বলছেন এসব!
– রনিল সাহেব, আমরা খুবই ডেসপারেট। আর আফ্রিকাতে সোনা আর হীরার খনি আছে।
– দাড়ান দাড়ান! আপনি কি ম্যাচ হারার বিনিময়ে আমাকে সোনা হীরা এসব সাধছেন?
– সোনা বলতে ধাতব সোনা বুঝিয়েছি মি পিএম। এশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজে নাকি এটার অনেক রকম মিনিং আছে। তবে সেসব আবদারও পূরন করতে পারবো..
– (কিছুটা গম্ভীর স্বরে) যদি এসব না নেই?
– তামিল বিদ্রোহীদের অবশিষ্ট একটা গ্রুপের সাথে কথা হয়েছে আমাদের। তারা নেবো তখন। বললাম না! আমরা খুবই ডেসপারেট।
– হুমম..আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি লাইনে থাকুন।

(লাইন কেটে দিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী, ওপাশে তখনো আছেন জুমা। সিংহলি লোকসঙ্গীত শুরু হলো আবার।)

তারপর…

অন্য লাইনে অপারেটরকে ডাকলেন রনিল।

– এই প্রেমসিংহ, সাঙ্গাকে লাইনে দাও তো!
– স্যার, সাঙ্গারত্নে বিক্রমাদিত্যে..
– কুমার সাঙ্গাকারা, আমাদের ক্রিকেট টিমের কেপ্টেন।
– এক্ষুনি দিচ্ছি স্যার!
(খট করে একটা আওয়াজ হলো, সম্ভবত স্যালুট আর ডায়াল একসাথে করেছে অপারেটর।)
– হ্যালো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কুমার বলছি।
– সাঙ্গা! মাই ডিয়ার বয়! কেমন আছো তুমি?
– এইতো স্যার ভালো আছি। কালকে কঠিন ম্যাচ..
– হুমম..ইয়ে সাঙ্গা, যেজন্য আসলে ফোন দিলাম, কালকের ম্যাচটা, একটুউ…ইয়ে, ওদের ছেড়ে দেয়া যায় না?
– হোয়াট? ছেড়ে দিবো?? কি বলছেন স্যার!!! কালকে ছেড়ে দিলে ওইটাই হবে আমার শেষ ম্যাচ..
– আরে শুনো, বহুদিন তো খেলাধুলা করলা। এখন একটু রেস্ট টেস্ট যদি নিতে চাও..
– স্যার আসলে কি বলতে চাইছেন? খুলে বলুন তো!
– ইয়ে মানে, কালকের ম্যাচটা যদি ছেড়ে দাও, এরপর সাউথ আফ্রিকায় লং ভ্যাকেশন। এরপর দেশে এসে আমার পার্টিতে তো কত পদ পড়ে আছে..
– এসবের জন্য নিজের দেশকে হারিয়ে দেবো? ছি ছি..কিভাবে ভাবলেন আমি এমন করবো? আমার মধ্যে দেশপ্রেম নাই?
– তোমার মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম থাকে তাইলে কালকের ম্যাচটা গু-হারা হারবা। সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাথে তামিল গেরিলাদের একটা অংশের ডিল হয়েছে। বস্তাভরা সোনা আর হীরা..
– (চিন্তিত স্বরে) সোনা?
– আরে গাধা! ধাতব সোনা!!
– ওও আচ্ছা আচ্ছা..
– সেজন্য বলছি, ভাবো কি করবে।
– স্যার আমরা অতো ধনী না হলেও, একেবারে গরীব তো না..যুদ্ধ যদি বেধেও যায়..
– ম্যাচ হারলে ওই সোনা আর হীরার বস্তা আমরা পাবো! আমরা মানে তুমি আর আমি।
– স্যার, দেশপ্রেমের উপরে কিছু নাই। দেশপ্রেমের স্বার্থে যদি একটা ম্যাচ ছাড়তে হয়..
– (খুশী খুশী গলায়) এইতো গুড বয়। যাও সবকিছু রেডি করো। আমি ফাইনাল কথা বলে দেই। জুমা অনেকক্ষণ ধরে লাইনে আছে।

cricket_bat

(লাইন পরিবর্তন করলেন রনিল। )
– জুমা সাহেব
– রান্টা রান্টা..লালালাআ..
– হ্যালোও??
– ওহ সরি মি পিএম! আপনাদের ভাষায় গান শুনছিলাম। ভেরি মেলোডিয়াস।
খুব ভালো, শোনেন আমার কেপ্টেন কিছুতেই রাজী হচ্ছে না ডিলটাতে। এট লিস্ট বছরখানেকের জন্যে দুইটা বাংলো ভ্যাকেশনের জন্যে না দিলে..
– তিনটা বাংলো। পার্মানেন্টলি দিলাম, যান..
– আচ্ছা, আগে ব্যাট করলে কতো রান করবে তারা?
– খুব বেশী হলে দেড়শো।
– সাঙ্গা যদি সেন্চুরি করে?
– দেখুন রনিল সাহেব, আমার টিমটাকে বলা হয় চোকার, এমনি এমনি তো আর বলা হয় না, তাইনা? এখন তারা যদি ওই রানটাও চেজ করতে না পারে তাইলে সোনার বস্তা, বাংলো সব চলে যাবে..
– ওক্কে ডান! দেড়শোই পাক্কা। নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন এখন।
– অলরাইট মাই ফ্র্যান্ড..
– ওহ আরেকটা কথা, আপনাদের ওখানে যাবো কবো? বাংলো পরিদর্শনে?
– দুই মাস পরে আসেন। সামনের মাসে আমি আবার ভারত যাচ্ছি একটা কাজে। মোদী সাহেব কথা দিয়েছেন আমাকে আর ভিলিয়র্সকে নিয়ে বলিউডে দুইটা ফিল্ম করাবেন।
– হ্যাঅ্যা?!?!
– আচ্ছা রাখছি। ভালো থাকুন।
(খুট করে কেটে গেলো লাইন)

(উপরে উল্লিখিত টেলিফোন আলাপগুলো অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রকাশ করেছে অত্যন্ত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s