ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইন ও পেপসির “মওকা মওকা”

আপডেট: বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে বিতর্কিত ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছে ইউটিউব।
p style=”text-align:justify;”>বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হওয়ার পর থেকেই টেলিভিশনে পেপসির একটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে। মওকা মওকা শিরোনামের আধা মিনিটের বিজ্ঞাপনগুলো মূলত ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের একটা অংশ। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচটি ছিলো চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে, সেই থেকে শুরু।

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের আজতক কোনো জয় নেই। ১৯৯২ সালে তারা বিশ্বকাপ জিতেছে, ১৯৯৯ সালে ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছে, কিন্তু বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোটা কখনোই হয়ে উঠেনি তাদের। সেই খোচাটাই দেয়া হয়েছে সেই বিজ্ঞাপনে, পাকিস্তানের সাপোর্টার এক তরুনকে দেখা যায় প্রতিটি বিশ্বকাপে আয়োজন করে খেলা দেখতে, সে ভাবে এবার বুঝি তার দল জিতবে, তার বাজি ফুটানোর ‘মওকা’ আসবে..কিন্তু তার বয়স পার হয়ে যায়, কিন্তু মওকা আর আসে না। (মজার ব্যাপার হচ্ছে এবারো মওকা আসেনি, বেশ বড় ব্যাবধানেই হেরেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানকে নিয়ে করা ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপণের একটি দৃশ্য

পাকিস্তানের ম্যাচের পর ভেবেছিলাম ‘মওকা মওকা’ র সমাপ্তি হয়েছে, অন্তত চারটা বছরের জন্য। কিন্তু কিসের কি! পাকিস্তানের জিততে না পারার রেকর্ড যেমন ভারতের সাথে, ভারতের ঠিক তেমন সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। তো দেরি কি, বানাও আরেকটা মওকা মওকা! (সাউথ আফ্রিকাকে নিয়ে বানানো এই বিজ্ঞাপনটা দেখার পর মনে মনে খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে, অন্তত ভারত হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তানিরা একটা সান্তনা পাবে, আর এই মওকা মওকা ক্রেজ হাওয়ায় ভেসে যাবে। কিন্তু সেটা তো হলোই না, কিভাবে কিভাবে ভারতই উল্টো হারিয়ে দিলো সাউথ আফ্রিকাকে!)

এরপর জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে শুরু করে আরব আমিরাত – কেউ বাদ পড়লো না ‘মওকা’র হাত থেকে। যদিও তেমন ধারালো কিছু ছিলো না পরের বিজ্ঞাপন গুলো, তবে চ্যালেঞ্জটা সবাইকেই করা হয়েছে, বিশ্বকাপ জিততে এসেছো? দেখি আমাদের হারাও!

কোনো সন্দেহ নেই এইরকম ধারালো ক্যাম্পেইন টিম স্পিরিট ধরে রাখতে বড় একটা ভূমিকা রাখে। একেবারে প্রথম ম্যাচ থেকে তাদের ছুড়ে দেয়া এই চ্যালেঞ্জ শুধু তাদের দলকেই না, বরং প্রতিপক্ষ দলকেও নিশ্চিতভাবেই উজ্জীবিত করেছে ভালো খেলতে।

কিন্তু সেই সাথে একটা ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত, মাঠে এগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলা আর সেই দলের হয়ে এগ্রেসিভ ক্যাম্পেইন করা এক কথা না। কারণ ক্রিকেটারদের জন্য আইসিসির হাজারটা আইন কানুন থাকলেও, গ্যালারিতে বা টিভির সামনে থাকা সমর্থকরা বরাবরই নিয়ন্ত্রনের বাইরে। তাদের কাছে এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে মেসেজটা যাচ্ছে, সেটা যেন তাদের উপর খারাপ প্রভাব না ফেলে সে ব্যপারে সতর্ক থাকা উচিত সকলেরই।

এতোগুলো কথা বললাম কারণ গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়েছে, সামনে সপ্তাহে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত। এখনো ‘মওকা মওকা’র বিজ্ঞাপন টিভিতে আসেনি। কিন্তু তার অপেক্ষা না করে সমর্থকরা নিজেরাই একটা মওকা মওকা বিজ্ঞাপন বানিয়ে ফেলেছে। তাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রসংগ টানা হয়েছে, ভারতের জার্সি পরা ছেলেটির পায়ে ফুল দিয়ে পূজা করার একটা দৃশ্য দেখানো হয়েছে। কাঁচা হাতের এডিটিং, কিন্তু যা বলার চেষ্টা করা হয়েছে সেটা খুবই পরিষ্কার।

ভিডিওটা দেখে একটা ডিজলাইক দিয়ে চলে আসলাম। কমেন্টে অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছে, কুৎসিত ভাষা প্রয়োগও চলছে সমান তালে। আবার অনেকে শুনলাম এটা নকল করে বাংলাদেশের পক্ষে একটা পাল্টা ভিডিও ছাড়ার চিন্তা ভাবনা করছে।

তবে আমরা সমর্থকরা যা কিছুই করি না কেন, এসব ক্যাম্পেইন যারা বাজারে চালু করছেন, আরও একটা মওকা মওকা বিজ্ঞাপন টিভিতে ছাড়ার আগে তাদের উচিত বিষয়টা মাথায় রাখা। এই উপমহাদেশে ক্রিকেটের জন্যে দাঙ্গা পর্যন্ত হয়, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার পর ক্রিকেটারদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও কিন্তু ঘটেছে। সমর্থকদের ভেতর নিজের দলকে নিয়ে উন্মাদনা থাকবেই, কিন্তু সেই উন্মাদনার আগুনের উৎস যেন গণমাধ্যম না হয়, সেটাই সকলের প্রত্যাশা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s