ভারতের নির্বাচন নিয়ে এলোমেলো কিছু চিন্তাভাবনা

মাসব্যাপী ভোট গ্রহণের পর অবশেষে আজ সকালে ফল প্রকাশ হলো সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতে। খুব অবাক হওয়ার মতো ফল হয়েছে তা বলবো না। তবে খারাপ আশংকা গুলোকে একসাথে সত্যি হতে দেখার অভিজ্ঞতাটা যে খুব একটা ভালো ছিলো না। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৮০ আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এর বিপরীতে মাত্র ৫৮টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। অন্য সব দল মিলে পেয়েছে ১৮৫টি আসন।

কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্যে প্রয়োজন পড়ে ২৭২টি আসন। বিজেপি একা পেয়েছে ২৮৪টি আসন। অর্থাৎ তারা চাইলে শরীকদের ছাড়া একাই সরকার গঠন করতে পারে। যদিও সেটা হয়তো হবে না শেষ পর্যন্ত।

india

তবে গুজরাট দাঙ্গার রক্তের দাগ মুছে নরেন্দ্র মোদীই যে প্রধানমন্ত্রী পদে বসছেন দিল্লীর মসনদে – সেটা একদম নিশ্চিত।

বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পাওয়ার নরেন্দ্র মোদীর টুইট

এই প্রসঙ্গেই ভাবছিলাম,  এই নির্বাচনে আসলে জয় কার হলো? দলগত ভাবে বিজেপির? নাকি নরেন্দ্র মোদীর? নাকি সমস্ত উগ্র সাম্প্রদায়িক দলগুলোর?

আর পরাজয়টাই বা কার হলো? কংগ্রেসের? নাকি গান্ধী পরিবারের? নাকি অসাম্প্রদায়িক চেতনার?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আমরা পাবো সামনের দিনগুলোতে। তবে দূর থেকে সংবাদ বিশ্লেষণ করে মনে হলো আমার কিছু কিছু চিন্তা শেয়ার করা যেতে পারে।

  • নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখে বিজেপি প্রচারণার যে কৌশল নিয়েছিলো, তা হাতে হাতে ফল দিয়েছে। প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে দেশজুড়ে মোদী জ্বর সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলো তাদের প্রচারণা উইং। তার বিপরীতে রাহুল গান্ধীর প্রচারণা ছিলো অনেকটাই অলস আর দায়সারা গোছের।

 

  • দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ভঙ্গুর অর্থনীতি কপাল পুড়িয়েছে কংগ্রেসের। ব্যবসায়ীদের প্রবল সমর্থন তাই ছিলো মোদীর দিকে।

 

 

  • আমআদমী পার্টির কেজরিওয়াল কিছুটা সুস্থ বুদ্ধির হলে হয়তো কিছুটা ভালো করতে পারতেন। একের পর এক নাটক আর খামখেয়ালীপনা করে ‘আম-আদমী’-র আস্থা অনেকটাই হারিয়েছেন দিল্লীর রাজ্য নির্বাচনে চমক দেখানো এই নেতা।

 

 

  • সামনে রাহুল থাকলেও আড়চোখে সবার নজর ছিলো প্রিয়াঙ্কার দিকে।

 

 

 

 

  • বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অভিযোগের বিপরীতে তাদের একটা মোক্ষম উত্তর হচ্ছে, “সব দাঙ্গা হয় কংগ্রেসের আমলে এবং তারা সেটা বসে বসে দেখে..” ভোট চিত্র বলছে শক্তভাবে এর পালটা যুক্তি দিতে পারেনি কংগ্রেস। অথবা হয়তো এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়নি সাধারণ মানুষ।

  • সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোট ছাড়াই বিজেপি এতো বড় বিজয় পেয়েছে তা অনুমান করা কষ্টকর।

 

  • পশ্চিমবঙ্গে আর ও পাকাপোক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান। তাই তিস্তায় পানি পাওয়ার আশায় গুড়ে বালিই থেকে গেলো।
  • নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর মোদীর সাম্প্রদায়িকতা ঠেকানো ও সংখ্যালঘুদের রক্ষার দায় এখন ভাগাভাগি করতে হবে বিচার বিভাগ আর মিডিয়াকে।

শেষকথা: অনেকেই অবাক হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির এই বিশাল বিজয়ের আসল রহস্য কি। কোন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দুই দুইবারের ক্ষমতাশীন কংগ্রেসকে সরিয়ে দিলো দিল্লীর মসনদ থেকে। সত্যিই জানতে চান? তাহলে নিচের টুইটটা দেখুন Sarcastic smile

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s