টিপাইমুখ ইস্যুতে অনলাইন পিটিশন: এক লক্ষ সাইন হলেই এগিয়ে আসবে জাতিসংঘ?

উমর

কিছুদিন আগে ব্লগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম ফেসবুক চেইন মেসেজ নিয়ে, সেখানে একটা চেইন মেসেজ কিভাবে একজন থেকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে পড়ে, কিভাবে তারা গুজব প্রচার করে তার বিস্তারিত বর্ণনা ছিলো। সেখানে চেইন মেসেজের একটা বৈশিষ্ট্য ছিলো এরকম যে, এগুলা সাধারণত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নামে সার্কুলেট করা হয়। যেমন বলা হয় এই মেসেজটা শেয়ার করলে প্রতিটার বিনিময়ে জাতিসংঘ আফ্রিকার দরিদ্র শিশুদেরকে এক ইউরো অর্থ সাহায্য দিবে। যার একেবারেই কোন ভিত্তি নাই , জাতিসংঘের নাম আর আফ্রিকার দরিদ্র শিশুদের ছবি ব্যাবহার করে নিছকই মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।

ঠিক এরকমই একটা মেসেজ সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সব বাংলাদেশী ফেসবুক ইউজারের ওয়ালে। সেটা হলো Change.org’র একটা অনলাইন পিটিশন। এটায় এক লক্ষ মানুষ সাইন করলেই নাকি জাতিসংঘ ভারত ও বাংলাদেশের চলমান টিপাইমুখ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করবে। কয়েকজন বন্ধু মারফত আমার কাছে মেসেজটি এসেছে এভাবে:

টিপাইমুখ বাধ রোধে এগিয়ে আসতে পারে জাতিসংঘ, কিন্তু দরকার ১ লক্ষ সাইন। নিচের লিঙ্কে গিয়ে সাইন করে, টিপাইমুখ বাঁধ রোধ করতে সবাই অংশগ্রহণ করি।

http://www.change.org/petitions/united-nations-tipaimukh-dam-must-be-stopped

আমি লিঙ্ক চেক করে যেটা বুঝতে পারছি সেটা হলো, এটা একটা অনলাইন পিটিশন। বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে যে কেউ-ই অনলাইন পিটিশন খুলতে পারে এবং দাবীর সপক্ষে সাইন আহবান করতে পারে। কিন্তু এক লক্ষ কেন, একশো কোটি সাইন হলেও জাতিসংঘ এইসব বিতর্কের ভেতর হস্তক্ষেপ করবে না কারণ, জাতিসংঘ কি করবে না করবে সেটা সদস্য দেশগুলার ভোটাভুটির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। আর বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকার যদি বাঁধের ব্যাপারে একমত হয় সেক্ষেত্রে জাতিসংঘের সেখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নাই, কারণ তখন এটা দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

Change.org যে কাজটা করতে পারে, সেটা হলো এক লক্ষ সাইন নিয়ে তারা জাতিসংঘকে পিটিশনের ব্যাপারটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো। এটা করলে দুই দেশের সরকারের উপরও জনমতের একটা চাপ কিছুটা হলেও পড়বে। আমার মনে হয় যারা এই পিটিশনটি তৈরি করেছেন তারাও এই উদ্দেশ্য নিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন এটা পিশিং সাইট, কিন্তু আমার কাছে সেরকম মনে হলো না (লিঙ্কটা দেখেন, পিশিং সাইট কখনো  https:// হয় না)। তারপরও সাবধানতার মাইর নাই, যারা সাইন করেছেন তারা সন্দেহ থাকলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলেন, অথবা অ্যাপলিকেশনটি রিমুভ করে দেন।

যারা পিটিশনের জন্যে ক্যাম্পেইন করছেন তাদের বলবো, আপনারা সঠিক তথ্য দিয়ে পিটিশনের ক্যাম্পেইন করেন, এটা সত্যি যে এই পিটিশন টিপাইমুখ ইস্যুতে জনমত গঠনে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। কিন্তু দয়া করে কেউ বিভ্রান্তিকর কোনও তথ্য শেয়ার করবেন না, তাহলে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।

(ছবি গুলা বিভিন্ন ব্লগ থেকে পাওয়া)

Advertisements

3 comments

  1. অনেক ধন্যবাদ।
    আপনার এই কথাগুলোই অনেককে বলতে চেয়েছিলাম। কেউ শুনতে চাইলো না। পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ই এখন হুজুগে আছে।

    • আমাদের তো একটা বিষয়ে হুজুগ উঠলেই হলো :-\ চোখ কান বন্ধ করে পিছন পিছন ছুটতে
      থাকি…আমিও আসলে এই ব্যাপারগুলা ক্লিয়ার করার জন্যেই পোস্টটা দিয়েছিলাম,
      সেক্ষেত্রে এই লেখাটা শেয়ার করতে পারেন:)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s