এক পড়ন্ত বিকালে পাহাড় চূড়ায়

উমর

ছোটবেলায় বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে জেনেছিলাম সাগরের পানিতে লবণের অনুপাত নাকি অনেকটা মানুষের রক্তের মতো, এই কারণে সাগরের কাছাকাছি আসলেই আমরা একধরনের টান অনুভব করি। দেখা যায় হাইড্রোফোবিয়ার কারণে বাড়ীর পাশে থাকা পুকুরের ধারে কাছেও যায় না এমন মানুষ মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার বা কুয়াকাটার সাগর সৈকতে জলকেলি করছে। কিন্তু পাহাড়ের ভেতর কি এরকম কোনও আকর্ষণী শক্তি আছে? আমার মনে হয় আছে, নাহলে দুপুরের আচমকা বৃষ্টির পর পাহাড়গুলোকে এতো মায়াময়ী কেন লাগে?

এটা কিন্তু কানাডা পাহাড় না, আমরা এটাকে ডাকি স্লিপিং বিউটি বলে

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবচেয়ে উঁচু চুড়া যেটা তার নাম কানাডা পাহাড়। আমি নিজেও প্রথমে এটার নাম শুনে অবাক হয়েছি, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটা পাহাড়, আর তার নাম রাখা হয়েছে কানাডা…কোনও মানে হয় পরে ভালো করে দেখার পর এই রহস্য ভেদ করেছি। পাহাড়ের একেবারে উপরে একটা গাছ আছে যেটার ডালে উঁচু করে কানাডার একটা পতাকা লাগানো (আসলে পতাকাটা কানাডার না, কোনও একটা সামাজিক সংগঠনের হবে হয়তো। তবে দূর থেকে কানাডার মতো লাগে)।

পাহাড়চূড়া থেকে দেখা IIUC'র কুমিরা ক্যাম্পাস

দুপুর শেষে বিকালের নরম রোদ যখন পাহাড়ের অসমান ঢালে আছড়ে পড়ছে, কি মনে করে আমরা তিনজন- রাজন, আমি, আর আসফি মিলে ঠিক করলাম আজকে কানাডা পাহাড়ে উঠবো-ই। একটা পথ দেখা যাচ্ছে, নিশ্চিত না হলেও বুঝা যাচ্ছে এই দিক দিয়ে এগোলে উপরে উঠা যাবে। তাই সেই পথেই হাটা শুরু করলাম, তারপর অনেক ঝোপ ঝাড় এড়িয়ে একসময় উঠেও গেলাম চুড়ার উপর। চুড়ার উপর সংকীর্ণ ভূমি একটু পা ফসকালেই পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাবধানে এগিয়ে সুবিধা মতো একটা জায়গায় দাঁড়ালাম তিন জন।

দূরে গিয়ে দিগন্তরেখা মিশেছে সমুদ্রের সাথে...

চারিপাশে ঘন সবুজ ঝোপ, আর অনেক অনেক নিচে আমাদের পরিচিত লোকালয়। আরোহণের ধকল সামলাতে মাটিতেই বসে পড়লাম কিছুক্ষণের জন্য। চোখের হিসাবে বুঝলাম আনুমানিক দশ থেকে বারো তলার মতো উপরে আছি আমরা। সামনের পরিচিত দৃশ্যগুলো ছাড়িয়ে দেখা যাচ্ছে কেডিএস এর কন্টেইনার ইয়ার্ড, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তার থেকেও দূরে তাকালে দিগন্তরেখা ধরে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আছড়ে পড়া সমুদ্রের ঢেউ, আর হাইওয়ে ছাড়িয়ে বহুদূরে কুমিরা বিচে দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজ গুলোকে।

পাহাড়ের পেছনের জনপদ...

পাহাড়ের পেছনে ব্রিকফিল্ডের ভেতর চলে যাওয়া রাস্তা ধরে বহুবারই হেঁটেছি। বিকালবেলা মাঝেমধ্যেই দল বেধে ওখানে ঘুরতে যাই। রাস্তা যে জায়গায় ব্রিক ফিল্ডের ভেতর গিয়ে মিশেছে তার পাশে একটা ঘাসের পাহাড় আছে। শেষ বিকালে সেই বাগান থেকে পেঁপে চুরি করার মতো অভিজ্ঞতাও হয়েছে দুই একবার। চিরপরিচিত সেই এলাকাও কেমন যেন অন্যরকম লাগছে উপর থেকে।

হাতে একটা ক্যামেরা ছিলো, তাই অপটু হাতে তোলা এই কয়টা ছবি আপলোড করলাম। ছবিতে তো কখনোই আসল দৃশ্যের সৌন্দর্যটা পুরোপুরি ফুটে ওঠে না, তবুও শেষ বিকালের আলো ফটোগ্রাফারদের অনেক পুরনো বন্ধু। একেকটা করে ক্লিক করছি আর আপন মনে গুনগুন করে গাইছি John Denver এর Rocky Mountain High গান-টা। এতদিনে প্রায় হাজারবার শোনা হলেও পাহাড় চুড়ায় দাঁড়িয়ে এখন মনে হচ্ছে যেন নতুন করে বুঝতে পারছি গানের প্রতিটি লাইন।

He was born in the summer of his 27th year
Comin’ home to a place he’d never been before,
He left yesterday behind him
You might say he was born again
You might say he found a key for every door..

When he first came to the mountains his life was far away-
On the road and hangin’ by a song;
But the string’s already broken and he doesn’t really care
It keeps changin’ fast, and it don’t last for long;

..But the Colorade Rocky Mountain high
I’ve seen it rainin’ fire in the sky
The shadow from the starlight is softer than a lullabye
Rocky Mountain high;

He climbed cathedral mountains, he saw silver clouds below-
He saw everything as far as you can see;
And they say that he got crazy once
and he tried to touch the sun
And he lost a friend but kept his memory..

Now he walks in quiet solitude the forests and the streams-
Seeking grace in every step he takes;
His sight has turned inside himself to try and understand
The serenity of a clear blue mountain lake

Now his life is full of wonder, But his heart still knows some fear-
Of a simple thing he cannot comprehend;
Why they try to tear the mountains down
To bring in a couple more
More people, more scars upon the land

..& the Colorado Rocky Mountain high
I’ve seen it rainin’ fire in the sky
I know he’d be a poorer man if he never saw an eagle fly
Rocky Mountain high;

সূর্য্য ডুবে যাচ্ছে, ক্ষণিকের বিশ্রাম শেষে আবার একই পথে আমরা নেমে যেতে লাগলাম ঢাল বেয়ে। ফিকে হয়ে আসা নরম রোদে তখনো চিক চিক করছে সবুজ পাতাগুলো, আর চারিপাশে উড়ে বেড়ানো পোকাগুলো অবিশ্রান্ত ভাবে প্রদক্ষিণ করে চলেছে নিজেদের জগতটাকে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s