আজকের ম্যাচ-পরবর্তী উন্মাদনা প্রসঙ্গে

উমর

আজকে আমরা যারা বাংলাদেশের খেলা দেখেছি অনেকেরই আশা ছিলো টাইগার দের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ ম্যাচ দেখতে পারবো আমরা। যেহেতু ওয়ানডে র‍্যঙ্কিং এ বাংলাদেশ এগিয়ে, তাই বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে এই আশা ছিলো যে হয়তো আজকেও আবার বিজয় মিছিল বের হবে রাজপথে, কোয়াটার ফাইনালের যে স্বপ্ন আমরা দেখেছি তা বাস্তবায়নের পথে একধাপ এগিয়ে যাবে টাইগাররা। কিন্তু টসে জিতে ব্যাট করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে কম স্কোরের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগার বাহিনী। আমি নিজেও আশরাফুলের উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আর খেলা দেখিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে নয় ওভারের মধ্যেই শেষ করে দেয় খেলা আর সারা বাংলাদেশে নেমে আসে হতাশার অন্ধকার।

কিন্তু ঘটনা এখানে শেষ নয়, হারের পর সমর্থক দের তোপের মুখে পড়ে সাকিব বাহিনী। দেশের সমস্ত মিডিয়া এই দিনকে প্রচার করতে থাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে শোকের দিন হিসেবে। শুনেছি কোনও কোনও এলাকায় জুতা মিছিলও হয়েছে, ফেসবুকে নাকি ক্রিকেটারদের কুশপুত্তলিকা দাহ করার ইভেন্টও আয়োজন করা হয়েছে। যারা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর রঙ খেলা করেছিলেন তারাই এর উদ্যোক্তা। আর সাকিবরাও এই উত্তাপ আচ করে নিয়েছেন ব্রিফিং দেয়ার সময়, ক্ষমা চেয়ে বলেছেন আজকের দিনটি ছিলো তার ক্রিকেট-জীবনের সবচেয়ে বাজে দিন। আর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন কোয়াটার ফাইনালের আশা হারিয়ে যায় নি এখনো, লড়াকু সেই বাংলাদেশ পরবর্তী ম্যাচে ঠিকই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেবে।

সব কিছু নিয়েই আশাবাদী হতে পারছি, কিন্তু আশাবাদী হতে পারছিনা কতিপয় উসৃংখল সমর্থকের কর্মকাণ্ডে। কিছুক্ষণ আগে ক্রিস গেইল টুইটের মাধ্যমে জানান দিলেন যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে বহনকারী বাস পথে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের ইট আক্রমণের শিকার হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এহেন মানসিকতা নিয়ে নিজের মত করেই লিখেছেন, সেখানে বলেছেন- আজ ইটের টুকরা ছুড়ছে, কাল তো গুলিও ছুড়তে পারে ! মিডিয়ার পক্ষ থেকে অফিসিয়ালদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন পথে ইটের টুকরার আঘাতে বাসের জানালা ছিদ্র হওয়ার ঘটনা। এরপর ক্রিকেটপাড়ায় সাড়া পড়ে যায়, যখন উইন্ডিস টিম ম্যানেজার রিচি রিচার্ডসন জানান যে, আইসিসি’র পক্ষ থেকে এই ঘটনা তদন্ত করার জন্য তিনি বোর্ডের সাথে কথা বলবেন। জ্যামাইকা অবজারভার আর ত্রিনিদাদ এক্সপ্রেস এই ঘটনা নিয়ে কভার স্টোরী ছেপেছে। বিসিবি সভাপতি উইন্ডিজদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সমর্থকরা নাকি মনে করেছিলো এর ভেতরে সাকিব বাহিনী আছে! বাসের ভেতরে যে-ই থাকুক বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হিসেবে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে যেন এরকম অনভিপ্রেত ঘটনা আর না ঘটে। এরমধ্যেই খবর পেলাম মাগুরায় সাকিবের পৈত্রিক বাড়িও উন্মত্ত সমর্থকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, এরকম ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাই এক সময় আমাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্মানে কালিমা লেপন করে দিতে পারে। আর এহেন আচরনে পরবর্তী ম্যাচের জন্য টাইগারদের আত্ববিশ্বাসেও চিড় ধরিয়ে দেবে নিশ্চিতভাবে। আর বিদেশী খেলোয়াড় দের নিরাপত্তা দিতে না পারলে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলতে পারে আন্তঃর্জাতিক ম্যাচের ভেন্যু হওয়ার যোগ্যতাও। তাই শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে আবেগের আতিশয্যে আমাদের নিজেরই ভুলে যেন বিশ্বের দরবারে আমাদের মাথা নিচু হয়ে না যায়।

Advertisements

2 comments

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s